April 14, 2026
image (7)

বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ মাজুলি আজ গোরু বিহুর প্রাণবন্ত শব্দ আর দৃশ্যে মুখর হয়ে উঠেছে। সপ্তাহব্যাপী রঙালি বিহু উৎসবের প্রথম দিন হিসেবে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানটি আসামের কৃষিভিত্তিক সমাজ এবং তাদের গবাদি পশুর মধ্যকার গভীর সম্পর্ককে উদযাপন করে।

চৈত্র মাসের শেষে ভোরের আলো ফুটতেই মাজুলি এবং গোলাঘাট জেলার বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে জড়ো হন। শত বছরের পুরনো রীতি মেনে লাঙলের বলদ এবং দুগ্ধবতী গাভীগুলোকে নদীতে স্নান করানো হয়। এরপর পশুর শরীরে মাহ-হলদি (কালো কলাই এবং হলুদের মিশ্রণ) মাখানো হয়, যা জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি মশা ও পতঙ্গ তাড়াতে ‘দীঘলতি’ এবং ‘মাখিয়তি’ গাছের ডাল দিয়ে তাদের গায়ে বাতাস করা হয়।

আচারের অংশ হিসেবে গবাদি পশুকে বিভিন্ন শাক-সবজি খাওয়ানো হয়। কৃষকরা তাদের পশুদের লাউ ও বেগুনের টুকরো খাওয়ান এবং আগামী কৃষি চক্রে তাদের সুস্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা কামনায় প্রার্থনা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা নিতুল হাজারিকা জানান, গোরু বিহু কেবল একটি উৎসব নয়, এটি গবাদি পশুর যত্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি যা কৃষির ওপর সম্প্রদায়ের নির্ভরশীলতাকে প্রতিফলিত করে।

এই উৎসবের আমেজ দেশি-বিদেশি পর্যটকদেরও নজর কেড়েছে। চিলি থেকে আসা লুই নামক এক পর্যটক নদী তীরের এই কর্মকাণ্ড এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই স্থানীয় ঐতিহ্যগুলো আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ধর্মীয় আচার শেষে পরিবারগুলো বাঁশের কাঠিতে ঝলসানো সবজি দিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির মাধ্যমে দিনের সমাপ্তি ঘটায়।

আজ রাতে গবাদি পশুদের নতুন দড়িতে বেঁধে গোয়ালে ফেরানোর মাধ্যমে গোরু বিহুর সমাপ্তি ঘটবে। আসামের মানুষ এখন অধীর আগ্রহে আগামীকালকের ‘মানুহ বিহু’র অপেক্ষা করছেন, যেখানে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হবে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামাজিক ভোজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *