স্কুল শিক্ষার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে অসম। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত পারফরম্যান্স গ্রেডিং ইনডেক্স (PGI) 2.0-এর ২০২৪-২৫ রিপোর্টে ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১২তম স্থান অধিকার করেছে রাজ্যটি। আগের মূল্যায়নে অসমের অবস্থান ছিল ২৭তম। ফলে এক লাফে ১৫ ধাপ এগিয়ে দেশের অন্যতম দ্রুত উন্নয়নশীল রাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে অসম।
রিপোর্ট অনুযায়ী, অসমের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে ‘গভর্ন্যান্স প্রসেসেস’ বা প্রশাসনিক কার্যকারিতা বিভাগে। এই ক্ষেত্রে রাজ্যটি ১৩০-এর মধ্যে ৮৫.৩ নম্বর পেয়ে ‘উত্তম-৩’ গ্রেড অর্জন করেছে, যা জাতীয় স্তরে মাত্র চারটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পেয়েছে। ডিজিটাল উপস্থিতি ব্যবস্থা, সময়মতো তহবিল বরাদ্দ, স্কুলছুট শিশুদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা এবং বিদ্যান্জলি পোর্টালের ব্যবহার এই উন্নতির প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবকাঠামো ও শিক্ষাসংক্রান্ত সুবিধার ক্ষেত্রেও উন্নতি করেছে অসম। তথ্যপ্রযুক্তি ল্যাব, স্মার্ট ক্লাসরুম, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত সূচকে রাজ্যটি ১৯০-এর মধ্যে ৯২ নম্বর পেয়েছে। পাশাপাশি, লিঙ্গ, সামাজিক ও গ্রামীণ-শহুরে বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে ‘ইক্যুইটি’ বিভাগে ২৬০-এর মধ্যে ২২৭.৭ নম্বর পেয়ে ‘উত্তম-১’ গ্রেড ধরে রেখেছে।
তবে শিক্ষক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিভাগে অসমের প্রাপ্ত নম্বর ১০০-এর মধ্যে ৫৩.৮।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সাফল্যকে ‘বিকশিত অসম’-এর লক্ষ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সুশাসন ও মানোন্নয়নের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, সবার কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই রাজ্যের প্রধান লক্ষ্য।
