আসামের গোয়ালপাড়া জেলার তুকরেশ্বরী এবং সিজুকোনা পাহাড়ে বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Mineral) মজুত থাকার যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তাতে এবার জল ঢালল জিওলোজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (GSI)। দেশের এই শীর্ষ ভূ-তাত্ত্বিক সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক বা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গত ২৬ মে খনি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ‘জিএসআই’ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে। সেখানে বলা হয়, ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে গোয়ালপাড়ার আগিয়া অঞ্চলের দক্ষিণ ভাগে যা চালানো হয়েছিল, তা ছিল নিতান্তই একটি ‘প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা’। এটি মূলত রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (REE) বা বিরল মৃত্তিকা উপাদানের উপস্থিতির ওপর করা একটি সমীক্ষা মাত্র ছিল। কোনো বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য খনি আবিষ্কারের ঘটনা এটি নয়।
সংস্থাটি আরও জানায়, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে সেখানে রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট বা আরইই-এর সামগ্রিক ঘনত্ব ১০০০ পিপিএম (parts per million)-এরও নিচে। ইন্ডিয়ান ব্যুরো অব মাইনস (IBM)-এর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই পরিমাণ খনিজ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো সম্ভব নয়। তাই পরবর্তীতে সেখানে আর কোনো খনিজ অনুসন্ধান কর্মসূচির সুপারিশ করা হয়নি।
ঐতিহাসিক তুকরেশ্বরী মন্দির বা তার আশেপাশের এলাকায় লিথিয়াম, কোবাল্ট, গ্রাফাইট কিংবা ভ্যানাডিয়ামের মতো মূল্যবান খনিজ পাওয়ার যে খবর ২৩ মে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে জিএসআই। সংস্থাটি সংবাদমাধ্যমগুলোকে যেকোনো খবর প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছে। খনিজ পাওয়ার খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যে তীব্র উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, জিএসআই-এর এই স্পষ্টীকরণের পর তা এক লহমায় ফিকে হয়ে গেল।
