স্বাস্থ্য সচেতনতা যখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি, তখন আধুনিক চিকিৎসার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার ‘টিকাদান’ নিয়ে জোরালো বার্তা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। লুমডিং সিভিল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ বিশালদীপ দাস সম্প্রতি এক আলোচনায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, সময়মতো টিকাদান কেবল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, বরং শিশুর দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রতিটি মা-বাবার মৌলিক দায়িত্ব।
সচেতনতামূলক এই আলোচনায় ডাঃ দাস উল্লেখ করেন যে, একসময় যেসব মারাত্মক রোগ শিশুদের মৃত্যু বা পঙ্গুত্বের কারণ হয়ে দাঁড়াত, সেগুলোর বিরুদ্ধে টিকাই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী সুরক্ষা। জন্মের পর থেকেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে টিকাদান শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে রোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করে। তিনি জানান, হাম, পোলিও, ডিপথেরিয়া এবং নিউমোনিয়ার মতো রোগগুলো নিয়মিত ও সময়মতো টিকার মাধ্যমে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ডাঃ দাসের বার্তার একটি প্রধান দিক ছিল এই জীবন রক্ষাকারী সম্পদের সহজলভ্যতা। ভারতের ‘ইউনিভার্সাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম’-এর অধীনে বিসিজি, পোলিও এবং হেপাটাইটিস বি-এর মতো সমস্ত প্রয়োজনীয় টিকা সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তিনি পরিবারগুলোকে অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব বা ভুল তথ্যে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অনুমোদিত প্রতিটি টিকা কঠোর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের জন্য নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত।
মা-বাবার সাধারণ দুশ্চিন্তাগুলো দূর করতে ডাঃ দাস ব্যাখ্যা করেন যে, ইনজেকশনের জায়গায় সামান্য ফোলা বা হালকা জ্বর আসা অত্যন্ত স্বাভাবিক; এটি প্রমাণ করে যে শরীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করছে। তবে তিনি বিরল কোনো উপসর্গ যেমন শ্বাসকষ্ট বা খিঁচুনি দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন। এছাড়াও তিনি মা-বাবাদের টিকাদান কার্ড সাথে রাখা, শিশুকে পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়ানো এবং বুস্টার ডোজ দিতে দেরি না করার পরামর্শ দেন।
ডাঃ দাস পরিশেষে মনে করিয়ে দেন যে, টিকাদানের পাশাপাশি সঠিক পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও শিশুর বিকাশের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “সময়মতো দেওয়া একটি টিকা শিশুকে আজীবন পঙ্গুত্ব বা প্রাণঘাতী জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে।” লুমডিংয়ে শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ার সাথে সাথে একটি বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে: আজকের প্রতিটি ডোজই হলো একটি রোগমুক্ত ও সুস্থ আগামীর ভিত্তি।
