উপত্যকায় গৌহাটি উচ্চ আদালতের (Gauhati High Court) একটি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবি এবার এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। শিলচরে এই বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত ‘হাই কোর্ট বেঞ্চ ডিমান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি’র কাছাড় জেলা ইউনিট সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির কাছে একটি ১১২ পাতার বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বরাক উপত্যকার তিন জেলা এবং পার্শ্ববর্তী ডিমা হাসাও জেলার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করার দাবিকে আরও জোরালো করা হয়েছে।
কমিটির পক্ষ থেকে প্রবীণ আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব এই স্মারকলিপিটি জমা দেন। এটি মূলত চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পেশ করা একটি প্রাথমিক আবেদনের ধারাবাহিকতা। নতুন এই ১১২ পাতার নথিতে বরাক উপত্যকা এবং ডিমা হাসাও অঞ্চলের বিচারপ্রার্থীদের গুয়াহাটি গিয়ে মামলা লড়ার ক্ষেত্রে যে ধরণের ভৌগোলিক, পরিকাঠামোগত এবং আর্থিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিলচর থেকে গুয়াহাটির দূরত্ব এবং যাতায়াতের অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের জন্য এক বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক ও রেলপথে দীর্ঘ সময় ব্যয় এবং যাতায়াতের বিপুল খরচের কারণে অনেক গরিব বিচারপ্রার্থী সময়মতো আইনি সহায়তা পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। নথিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, বিচারবিভাগীয় বিকেন্দ্রীকরণ এবং সিলচরে একটি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করা হলে মামলার পাহাড় প্রমাণ জট যেমন কমবে, তেমনই সাধারণ মানুষ তাদের দোরগোড়ায় দ্রুত বিচার পাবেন।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন যে, গুয়াহাটি উচ্চ আদালতের কাজের চাপ কমাতে এবং আইনি পরিষেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সিলচরে বেঞ্চ স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। এই ১১২ পাতার দলিলে প্রয়োজনীয় জমির লভ্যতা এবং পরিকাঠামো তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়েছে। বরাক উপত্যকার আইনজীবী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের আশা, প্রধান বিচারপতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই মানবিক ও যুক্তিপূর্ণ দাবির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পুনর্বিবেচনা করবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে এই স্মারকলিপি পেশ করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বরাক উপত্যকার মানুষের এই দীর্ঘদিনের আবেগ ও অধিকারের লড়াইকে আইনি পথে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল এই ১১২ পাতার বিশদ আবেদন। কমিটির প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যতদিন না পর্যন্ত সিলচরে গৌহাটি হাই কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, ততদিন এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।
