আসাম বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক তৃতীয় দফা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে দলটির সুপরিকল্পিত ডিজিটাল প্রচারণা। প্রথাগত প্রচারণার বাইরে গিয়ে এবার হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ডিজিটাল টিম জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মকে টার্গেট করে স্টোরিটেলিং এবং মিমের (memes) মতো আধুনিক মাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই কৌশলী প্রচারণার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘মামা’ হিসেবে জনপ্রিয় করে তোলা হয়, যা তাকে কেবল একজন নেতার ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়ে রাজ্যের ভূমিপুত্র ও সংস্কৃতির রক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃজনশীল কন্টেন্ট ও জেন-জি ঘরানার ভাষার ব্যবহার সাধারণ ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
বিজেপির এই ডিজিটাল রণকৌশল বিরোধী শিবিরকে মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। প্রচারণায় কংগ্রেসের পুরোনো ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিম এবং ভিডিও কন্টেন্টের মাধ্যমে আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করা হয়। একইসঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং অদম্য নেতৃত্বের গল্পগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। জেন-জি প্রজন্মের পছন্দের আধেয় বা কন্টেন্ট ব্যবহারের ফলে রাজনৈতিক বার্তাগুলো অনেক বেশি গ্রাহ্য ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক ব্যবহার এবং তারুণ্যনির্ভর প্রচারণা কেবল বিপুল ভোট টানতেই সাহায্য করেনি, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে বিজেপির আধিপত্যকে আরও সুসংহত করেছে। ১০২টি আসন নিয়ে এনডিএ জোটের এই বিশাল জয় প্রমাণ করে যে, সঠিক ডিজিটাল কৌশল ও জনসম্পৃক্ততা যে কোনো নির্বাচনে গেম চেঞ্জার হতে পারে।
