২০২৬ সালের আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বরাক উপত্যকায় বিজেপির জয়যাত্রা অব্যাহত। কাছাড় জেলার লক্ষ্মীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিশাল ব্যবধানে জয়ের পথে এগিয়ে চলেছেন বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী কৌশিক রাই। গণনার শুরু থেকেই নিজের আধিপত্য বজায় রেখে তিনি কংগ্রেস প্রার্থীকে কয়েক যোজন পেছনে ফেলে দিয়েছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৪ রাউন্ড ভোট গণনার শেষে কৌশিক রাই ১,০৬,৭০০ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থী ডক্টর এম শান্তি কুমার সিনহা পেয়েছেন মাত্র ২৪,০৪৮ ভোট। অর্থাৎ, ৮২,৬৫২ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে লক্ষ্মীপুরে পদ্ম শিবিরের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন তিনি। মাত্র কয়েক রাউন্ডের গণনা বাকি থাকতেই লক্ষ্মীপুরের রাস্তায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিজয়োল্লাস শুরু হয়ে গেছে।
এই বিপুল সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় কৌশিক রাই সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই ফলাফল মূলত উন্নয়নের পক্ষে একটি বলিষ্ঠ জনাদেশ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং গত পাঁচ বছরের নিরলস কাজের ওপর সাধারণ মানুষের অগাধ আস্থার প্রতিফলনই হলো এই জয়। তিনি লক্ষ্মীপুরের প্রতিটি ভোটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী দিনে এলাকার আরও দ্রুত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বরাক উপত্যকার সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কৌশিক রাই ১৯৯১ সালের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম যে বরাক উপত্যকা এবার রেকর্ড গড়বে। ১৯৯১ সালে বিজেপি ১৫টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জিতেছিল। এবার আমরা ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয়ী হওয়ার পথে, যা সাফল্যের হারের দিক থেকে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি মানুষের এই বিশ্বাসই বিজেপিকে আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লক্ষ্মীপুরের এই জয় কেবল একটি আসনের জয় নয়, বরং এটি বরাক উপত্যকায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ। কৌশিক রাইয়ের এই জয় এবং এনডিএ জোটের ১০০-র বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আসামের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।
