আগামী ৪ঠা মে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে রাজনৈতিক রণকৌশল স্থির করতে গুয়াহাটির রত্নমৌলী হোটেলে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনামূলক বৈঠকে মিলিত হচ্ছে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (APCC)। বিরোধী শিবিরের এই মেগা বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ, রাইজর দলের প্রধান অখিল গগৈ এবং অসম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং গণনার দিনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
এদিনের বৈঠকে অসমের জন্য কংগ্রেসের বিশেষ পর্যবেক্ষক তথা ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল এবং কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার উপস্থিত থাকতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বৈঠকের কৌশলগত আলোচনার পাশাপাশি বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন।
এপিসিসি (APCC) সভাপতি গৌরব গগৈ অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্ট্রং রুমের আশেপাশে এবং পোলিং স্টেশনের ভেতরে বিজেপি কর্মীদের অবৈধ অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কী করছে? গণতন্ত্রের পক্ষে এই ধরণের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভীতিপ্রদ।” অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা দেবব্রত সাইকিয়া গণনা কেন্দ্রের পরিকাঠামো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বহু স্থানে গণনা কেন্দ্রের মান নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী নয় এবং এই বিষয়ে কমিশনকে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে। বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, এগুলির ওপর তার আস্থা নেই কারণ অতীতে বাস্তবের সাথে এই সমীক্ষার ব্যাপক অমিল দেখা গেছে।
রাইজর দলের প্রধান অখিল গগৈ পরিবর্তনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, উপরি অসমে বিজেপির বিরুদ্ধে স্পষ্ট জনমত তৈরি হয়েছে এবং এবার বিরোধীরাই সরকার গঠন করবে। একই সুর শোনা গেছে কংগ্রেস নেতা জিতেন্দ্র সিংয়ের গলায়। তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি ও মাফিয়া রাজের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং বিরোধী জোট অন্তত ৭০ থেকে ৭৫টি আসন লাভ করবে। নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, কমিশন বিজেপির সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। তবে ৪ঠা মে সাধারণ মানুষের রায় বিরোধীদের পক্ষেই থাকবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
