June 16, 2026
Screenshot 2026-06-12 140021

শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র প্রায় ১১ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক ব্যানার্জী দৃঢ় মনোভাব দেখিয়েছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে তিনি তদন্তের চাপে ভীত হবেন না। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে কর্মকর্তারা স্কুল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম এবং তদন্তাধীন সম্ভাব্য আর্থিক সংযোগ নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ইডি-র জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যানার্জী কোনো ধরনের অন্যায়ের কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার যে প্রচেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে তিনি দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো অব্যাহত রাখবেন। তাঁর এই মন্তব্য, যার মধ্যে “আমার গলা কেটে ফেললেও” কথাটিও ছিল, তাঁর প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা প্রকাশ করে এবং এই দাবিকে আরও জোরালো করে যে, এই তদন্তকে তাঁকে ও তাঁর দলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্কুলের কর্মী নিয়োগে কথিত দুর্নীতির জন্য শিক্ষক নিয়োগ মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো নিয়োগ তালিকায় কারচুপি এবং অনিয়মিত অর্থ প্রদানের সন্দেহজনক ঘটনা তদন্ত করছে। চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের একজন প্রবীণ নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির একজন প্রধান কৌশলবিদ ব্যানার্জী ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন যে, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর সমর্থকেরা ইডি অফিসের বাইরে জড়ো হয়ে তাঁর পক্ষে স্লোগান দেন এবং তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।

তবে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে ইডি এই মামলাটি চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের নির্দিষ্ট বিবরণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তদন্ত সক্রিয় রয়েছে।

এই ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে মামলাটি শাসক দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে একটি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং উভয় পক্ষই দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *