অসমের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য ধরা পড়েছে। একদিকে যেখানে নারী ভোটারদের অভূতপূর্ব উপস্থিতি এনডিএ-র বিপুল জয় নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে নবগঠিত ১৬তম বিধানসভায় মহিলা বিধায়কদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয়-এ। ১২৬ আসনের এই বিধানসভায় নারীদের এই নগণ্য উপস্থিতি রাজ্যের রাজনীতিতে এক গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।”
অসমের নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে, রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশই মহিলা। এবার রেকর্ড ৮৬.৫০ শতাংশ মহিলা ভোটার বুথমুখী হয়েছিলেন, যা পুরুষদের ভোটদানের হারকেও ছাপিয়ে গেছে। ‘অরুণোদয় ৩.০’ বা ‘লক্ষপতি বাইদেউ’-এর মতো নারী-কেন্দ্রিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বিজেপির এই জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু যখন আইনসভার প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন আসে, তখন চিত্রটা বেশ হতাশাজনক।
নির্বাচিত ছয়জন মহিলা বিধায়কের মধ্যে পাঁচজনই শাসক জোটের। তাঁরা হলেন নীলিমা দেবী (মঙ্গলদৈ, বিজেপি), শিবলী মহিলারি (কোকড়াঝাড়, বিপিএফ), অজন্তা নেওগ (গোলাঘাট, বিজেপি), রূপালী লাংথাসা (হাফলং, বিজেপি) এবং দীপ্তিময়ী চৌধুরী (বঙ্গাইগাঁও, অগপ)। বিরোধী শিবির থেকে একমাত্র জয়ী মহিলা প্রার্থী হলেন ধুবড়ির বেবি বেগম। এই তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অজন্তা নেওগের নাম, যিনি গোলাঘাট থেকে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো জয়ী হয়ে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রেখেছেন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দেড় দশকে অসম বিধানসভায় মহিলাদের সংখ্যা ক্রমশ কমেছে। ২০১১ সালে যেখানে মহিলা বিধায়ক ছিলেন ১৪ জন, ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় আটজনে এবং ২০২১ সালে তা নেমে আসে ছয়ে। ২০২৬ সালেও সেই সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ১৯৫২ সাল থেকে এ পর্যন্ত অসমের ইতিহাসে মাত্র ৭৭ জন মহিলা বিধায়ক হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী নির্বাচনের ধরনেও এই বৈষম্য স্পষ্ট। এবার মোট ৭২২ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৫৯ জন ছিলেন মহিলা। বিজেপি মাত্র ৬ জন এবং কংগ্রেস ১৪ জন মহিলাকে টিকিট দিয়েছিল। বড় দলগুলো প্রায়শই মহিলাদের কঠিন আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পাঠায়, যা তাঁদের জয়ের সম্ভাবনাকে সীমিত করে দেয়। ভোটার হিসেবে মহিলারা নির্ধারণকারী শক্তি হয়ে উঠলেও, নীতি-নির্ধারণী সভায় তাঁদের কণ্ঠস্বর এখনও প্রান্তিক পর্যায়েই রয়ে গেছে।
