আসামে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে বুধবার রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র বিপুল বিজয়ের পর এই পদক্ষেপ নিলেন তিনি। গুয়াহাটির লোক সেবা ভবনে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ারও অনুরোধ জানান শর্মা।
রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আজ আমি আসামের রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি এবং একই সঙ্গে বর্তমান আসাম বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। রাজ্যপাল উভয় অনুরোধই গ্রহণ করেছেন।” তিনি আরও জানান যে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রীদের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিদায়ী সরকার কেবল প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন—এই প্রশ্নের উত্তরে শর্মা জানান, নতুন মন্ত্রিসভা এবং নেতৃত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকের পর। তিনি বলেন, “আগামী ১০ বা ১১ মে বিধায়ক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিধায়করাই ঠিক করবেন কে হবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের নেতা।” এই বৈঠকের জন্য বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়ব সিং সাইনিকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১১ মে-র পর যেকোনো দিন জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে পারে। এই ঐতিহাসিক জয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা কেবল ১০০-র বেশি আসনই পাইনি, বরং রাজ্যে জয়ের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেছি। এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”
এর আগে, আসামের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অনুরাগ গোয়েল নবনির্বাচিত বিধায়কদের সরকারি তালিকা এবং নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যপালের হাতে তুলে দেন। সব মিলিয়ে, আসামে এখন নতুন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।
