May 7, 2026
image (39)

গুয়াহাটির কৃত্রিম বন্যায় জর্জরিত জনজীবন নিয়ে অসম সরকারকে কড়া বার্তা দিল গৌহাটি হাইকোর্ট। শহরের বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোর উন্নয়নে রাজ্য সরকারকে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বর্ষার মরসুমে গুয়াহাটির রাস্তাঘাটে জল জমে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, তা কেবল যানজট বা দুর্ভোগ নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। বিশেষ করে খোলা ড্রেন এবং ম্যানহোলগুলি বৃষ্টির সময় মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। আদালত এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সমস্ত খোলা ড্রেন ঢেকে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারবিভাগীয় এই হস্তক্ষেপের ফলে অসম সরকার এখন একটি ব্যাপক ‘ফ্লাড অ্যাকশন রিপোর্ট’ বা বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা তৈরি করতে আইনিভাবে দায়বদ্ধ। এই রিপোর্টে শহরের প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম জলপথগুলির সংস্কার, পলি অপসারণ (desilting) এবং আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে। বছরের পর বছর ধরে গুয়াহাটির বাসিন্দারা যে ‘কৃত্রিম বন্যার’ মোকাবিলা করছেন, তা মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রশাসনিক উদাসীনতার ফল বলেই মনে করছে আদালত। তাই সরকার যাতে কেবল সাময়িক ব্যবস্থা না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে বের করে, তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগামী শুনানির আগেই এই কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গুয়াহাটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (GMC) এবং গুয়াহাটি মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (GMDA)-র ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শহরের কয়েক মাইল বিস্তৃত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক অডিট করা এবং মেরামতের কাজ এখন সময়ের চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের আশা, আদালতের এই কঠোর অবস্থানের ফলে এবার হয়তো গুয়াহাটি শহর জলমগ্ন হওয়ার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং একটি টেকসই ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *