April 27, 2026
image - 2026-04-27T163608.879

যোরহাটের তিওকের যাজিমুখে ব্রহ্মপুত্রের এক বিশাল বালুচরে ১০ হাজার শিমুল গাছের চারা রোপণ করে এক অনন্য সবুজ বিপ্লবের সূচনা করলেন স্থানীয় যুবকেরা। অসমের জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গর্গকে শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তারা এই এলাকাটির নাম দিয়েছেন ‘জুবিন সবুজ চাপরি’ (Zubeen Seuj Chapori)।

“জয় জুবিন দা”, “গাছ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে” এবং “একটি গাছ, একটি জীবন”—এই ধরনের শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ব্রহ্মপুত্রের তীরের এই এলাকাটি। শগুনপরা (Sagunpara) নামে পরিচিত এই স্থানটি ঐতিহাসিকভাবে তার অজস্র শিমুল গাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে শিমুল গাছের প্রাচুর্য থাকায় বিপুল সংখ্যক শকুন ও পরিযায়ী পাখির আনাগোনা ছিল, যার নাম থেকেই অঞ্চলটির নামকরণ হয় শগুনপরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাগাতার বন্যা, নদী ভাঙন এবং বন নিধনের ফলে সেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। হারিয়ে যায় শিমুল গাছ এবং সেই সঙ্গে শকুন ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান।

এই হারিয়ে যাওয়া পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই রূপক তায়ং-এর নেতৃত্বে যুবকদের একটি দল কোমর বেঁধে নেমেছেন। তাঁরা এই বালুচরে ১০ হাজার শিমুল গাছের চারা রোপণ করেছেন। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই বনসৃজন কর্মসূচি কেবল স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী পুনরুদ্ধারের একটি অঙ্গীকার।

রূপক তায়ং জানান, “দুই মাস আগে এলাকাটি পরিদর্শন করে আমরা অনুভব করি যে, একসময় শিমুল গাছের যে বিশাল সম্ভার ছিল, তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো শিমুল গাছগুলো বড় করে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে শকুন ও পরিযায়ী পাখিরা পুনরায় তাদের পুরনো ঠিকানায় ফিরে আসে।”

এই উদ্যোগটি শিল্পী জুবিন গর্গের প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন। জুবিন গর্গ আজীবন প্রকৃতি রক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, তাঁর সেই আদর্শকেই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চান এই যুবকেরা। শুধু তাই নয়, নদী তীরবর্তী এই এলাকাটি মারাত্মকভাবে ভাঙনপ্রবণ। এই ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নদী ভাঙন রোধেও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সবশেষে, উদ্যোক্তারা পরিবেশপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষকে এই সবুজ বিপ্লবের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু শকুনদের বাসস্থানই পুনরুদ্ধার হবে না, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর পরিবেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *