আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পরিবারের বিরুদ্ধে আনা কংগ্রেসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র পেশ করেছিলেন। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, পবন খেরার দেখানো ওই পাসপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রগুলো সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ এবং ভিত্তিহীন। সরকারি সূত্রমতে, জনসমক্ষে প্রদর্শিত ওই তথ্যের সাথে দাপ্তরিক রেকর্ডের কোনো মিল নেই এবং এটি স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি অপপ্রয়াস মাত্র।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। কংগ্রেস নেতার অভিযোগ ছিল যে, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী আইন বহির্ভূতভাবে একাধিক দেশের নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন, যা ভারতীয় আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যে সমস্ত নম্বর বা তথ্য ওই পাসপোর্টে ব্যবহার করা হয়েছে, তার কোনো বৈধ অস্তিত্ব নেই। মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থান আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও তার পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে, কারণ তারা শুরু থেকেই এই অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছিলেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি শিবির। তাদের মতে, কোনো তথ্য যাচাই না করেই একজন দায়িত্বশীল নেতার এমন সংবেদনশীল নথিপত্র প্রচার করা অনভিপ্রেত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের এই স্পষ্টীকরণের পর কংগ্রেসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শাসকদলের নেতারা। তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো পাল্টা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি সূত্রগুলো আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ভুয়া নথিপত্র তৈরি ও তা ব্যবহার করে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। আপাতত কেন্দ্রীয় সরকারের এই অবস্থানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী শিবিরের জোরালো আক্রমণের মুখে একটি শক্তিশালী ঢাল পেলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
