April 20, 2026
image (5)

হাই স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট (HSLC) পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বাতাদ্রবার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। রামপুর চলাপথর জাতীয় বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ফলাফল গোপন করে জনসমক্ষে ভুল তথ্য প্রচার করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা প্রতিষ্ঠানের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। অভিযোগ অনুসারে, প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাফল্যের কথা প্রচার করেছে এবং যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখেছে। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে এই অসম্পূর্ণ তথ্য পরিবেশন করেছে। এর মাধ্যমে স্কুলের সামগ্রিক ফলাফলকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, বেসরকারি এই স্কুলটি নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে এবং নতুন ভর্তির ক্ষেত্রে প্রভাব খাটাতে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। বাতাদ্রবা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার সচেতন নাগরিক ও শিক্ষিত সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সভায় শামিল হন। তারা মনে করেন, শিক্ষা খাতের মতো একটি স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের অস্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে শিক্ষা দপ্তরের কাছে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তারা আবেদন করেছেন যেন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই জালিয়াতির প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে এবং নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হয়ে থাকলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। বর্তমানে স্থানীয় এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি তদন্তের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। অভিভাবকরা এখন শিক্ষা দপ্তরের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *