মহাকাশে এক অভূতপূর্ব উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নাসা; তাদের লক্ষ্য হলো বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ‘নিল গেহরলস সুইফট অবজারভেটরি’কে (Neil Gehrels Swift Observatory) পৃথিবীতে আছড়ে পড়া থেকে রক্ষা করা। ২০০৪ সাল থেকে মহাজাগতিক গামা-রে বার্স্টের (gamma-ray bursts) মতো শক্তিশালী বিস্ফোরণের সন্ধানে থাকা ২২ বছরের পুরনো এই টেলিস্কোপটি বর্তমানে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আসছে। এর কারণ হলো সাম্প্রতিক তীব্র সৌর কার্যকলাপ, যা বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব ও ঘর্ষণ (atmospheric drag) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যাওয়া থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ উপগ্রহটিকে বাঁচাতে, নাসা যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিস’-কে (Katalyst Space Technologies) ৩ কোটি ডলারের একটি চুক্তি দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি মহাকাশে প্রথমবারের মতো এমন এক উদ্ধারকাজ পরিচালনা করবে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিযানটি ‘লিঙ্ক’ (Link) নামের ৯৩৫ পাউন্ড ওজনের একটি নতুন স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক মহাকাশযানের ওপর নির্ভরশীল। প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর একটি বাহক বিমান থেকে ‘পেগাসাস’ রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণের পর, ‘লিঙ্ক’ প্রায় এক মাস ধরে পথ পাড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসা অবজারভেটরিটিকে খুঁজে বের করবে এবং তার গতিপথের সাথে নিজের গতিপথ মিলিয়ে নেবে। টেলিস্কোপটির কাছে পৌঁছানোর পর, রোবটটি আঙুলের মতো আঁকড়ে ধরার ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষ বাহু ব্যবহার করে ‘সুইফট’-কে জাপটে ধরবে—এটি একটি অত্যন্ত জটিল কাজ, কারণ উপগ্রহটি এমনভাবে তৈরি করা হয়নি যাতে মহাকাশে সেটিকে অন্য কোনো যান দিয়ে ধরা বা মেরামত করা সম্ভব হয়। এরপর দুই মাস ধরে ‘লিঙ্ক’ তার নিজস্ব প্রপালশন বা চালিকাশক্তি ব্যবহার করে টেলিস্কোপটিকে ৩৬০ কিলোমিটার উচ্চতার বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান থেকে ঠেলে ৬০০ কিলোমিটার উচ্চতার আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল কক্ষপথে নিয়ে যাবে। এই অভিযান সফল হলে, কোনো মার্কিন মহাকাশ রোবট প্রথমবারের মতো কোনো সক্রিয় উপগ্রহকে ধরে অন্য অবস্থানে সরিয়ে নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করবে। এটি মহাকাশে উপগ্রহ মেরামতের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক নতুন পদ্ধতির সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে ‘হাবল স্পেস টেলিস্কোপ’-এর (Hubble Space Telescope) মতো বিখ্যাত সব মহাকাশযানের আয়ুষ্কাল বাড়ানোর জন্য একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বা ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে দেবে।
