মুষলধারে মৌসুমি বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় আসামের নজিরা অঞ্চল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ১৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে সড়ক, বসতবাড়ি, যানবাহন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্লাবিত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি নজিরার অন্যতম ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যেখানে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন ওএনজিসির নজিরা তেলক্ষেত্রে কর্মরত ক্রিস ড্রিলিং প্রাইভেট লিমিটেডের কর্মীরা। সংযোগ সড়ক ডুবে যাওয়ায় তারা কর্মস্থল ও আবাসিক ভবনে আটকা পড়েন। অনেককে কয়েকদিন ধরে ভবনের ছাদে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এ সময় তারা পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, বিদ্যুৎ, মোবাইল সংযোগ, স্যানিটেশন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
অবিরাম বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন পানিতে তলিয়ে গেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বহু গ্রামের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে ছাদ, উঁচু স্থাপনা ও গাছে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বন্যার কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে ক্রিস ড্রিলিং প্রাইভেট লিমিটেড জানিয়েছে, ওএনজিসি ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আটকে পড়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
