August 29, 2026
WhatsApp Image 2026-08-29 at 2.17.22 AM

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচিকে শুধুমাত্র পরিকাঠামোর বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে, স্বচ্ছ শাসন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং নাগরিক ক্ষমতায়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজ্য সরকার ডিজিটাল ত্রিপুরা গড়ে তুলছে। যেখানে প্রযুক্তি সরকারকে নাগরিকদের সঙ্গে, শিক্ষাকে সুযোগের সঙ্গে, উদ্ভাবনকে উদ্যোগের সঙ্গে এবং প্রতিভাবান যুব সমাজকে নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। ডিজিটাল ত্রিপুরা শুধুমাত্র কম্পিউটারাইজেশনের নাম নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল শাসন ব্যবস্থা, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সংযোগ, প্রতিটি জেলার জন্য সুযোগ এবং সমগ্র রাজ্যের জন্য প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে রাজ্য সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আজ বিধানসভায় একটি বেসরকারি প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি, অর্থ দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় একথা বলেন। বিধায়ক তফাজ্জল হোসেনের আনা বেসরকারি প্রস্তাবটি ছিল ‘রাজ্যের যুব সমাজের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে ত্রিপুরায় ইনফরমেশন টেকনোলজি ব্যবস্থাপনার যথাযথ সম্প্রসারণ সহ স্টার্ট আপ হাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ত্রিপুরা সরকার নতুন করে আরও উপযুক্ত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করুক’। আলোচনার পর প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

বেসরকারি প্রস্তাবটি উত্থাপন করে বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। এই প্রস্তাবটি সমর্থন করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় বলেন, ২০১৮ সালে সরকার গঠনের পর প্রযুক্তিনির্ভর শাসন ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান রাজ্যের প্রধান উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়। রাজ্য সরকার ডিজিটাল শাসন ব্যবস্থা, আইটি পরিকাঠামো, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, স্টার্ট আপ সহায়তা, দক্ষতা বিকাশ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সমন্বয়ে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সক্রিয় হয়। ২০১৬ সালে স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া উদ্যোগের সূচনা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা এবং ভারতের যুব সমাজকে চাকরি প্রার্থী থেকে চাকরি সৃষ্টিকারীতে রূপান্তরিত করা। এই ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ত্রিপুরায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার আইটি/ আইটিইএস, স্টার্ট আপ স্কিম ২০১৯ চালু করে। এই প্রকল্প রাজ্যের প্রযুক্তি নির্ভর স্টার্ট আপগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সুযোগ সৃষ্টি করে। এর আওতায় প্রায় ২৬টি স্টার্ট আপ স্বীকৃতি পায়। এজন্য ১ কোটি টাকারও বেশি সহায়তা করা হয় এবং প্রায় ১৩০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ২০১৮ সালের আগে প্রায় ৮০টি সার্ভার এবং ১৩০ টিবি স্টোরেজ থাকা স্টেট ডাটা সেন্টার বর্তমানে ২০০ টিবি-এর বেশি সক্ষমতা সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০ সরকারি অ্যাপ্লিকেশন এবং ওয়েবসাইট পরিচালন করা হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী রাজ্যে তথ্য প্রযুক্তি বিকাশের বিস্তারিত তথ্য সভায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যে রাজ্য স্তর থেকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত একটি সুসংহত ই-অফিস ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে ৩ লক্ষেরও বেশি ই-ফাইল তৈরি এবং ৭৫ লক্ষেরও বেশি ই-ফাইল ইলেকট্রনিকভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা যেখানে রাজ্যের যুব সমাজকে প্রতিটি অর্থবহ পেশাগত সুযোগের সন্ধানে রাজ্যের বাইরে যেতে হবে না। রাজ্য সরকার চায় আমাদের রাজ্যের যুব সমাজ হয়ে উঠুক সফটওয়ার প্রফেশনাল এবং টেকনোলজি এন্ট্রাপ্রেনার, এআই রিসার্চার এবং ডাটা সায়েন্টিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট, গেম ডেভেলপার এবং ডিজিটাল ক্রিয়েটার, ক্লাউড ও ডাটা সেন্টার প্রফেশনাল, এগ্রিকালচার, হেলথ কেয়ার এবং এডুকেশনের ইনোভেটর এবং স্টার্ট আপ ফাউন্ডার এবং সর্বোপরি জব ক্রিয়েটার। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য রাজ্য সরকার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বেসরকারি এই প্রস্তাবের উপর আলোচনা করেন বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ। আলোচনার পর প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *