ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নাগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইএএস অফিসার দেবাশিস শর্মা ১,৮১,০১৭ ভোট পেয়ে এক শক্তিশালী ও অভূতপূর্ব ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭৫,২৪৮ ভোটের ব্যবধান গড়ে তুলেছেন, যা নাগাঁওয়ের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি প্রাক্তন সাংসদ প্রদ্যুত বরদলৈয়ের বিজেপিতে যোগদানের ফলেই শূন্য হয়েছিল, আর সেই আসনেই দেবাশিস শর্মার এই জোরালো অগ্রগতি ক্ষমতাসীন দল বিজেপির শক্তিশালী জনভিত্তি ও উন্নয়নের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকেই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে। অন্যদিকে, সর্বভারতীয় সংযুক্ত গণতান্ত্রিক মোর্চা বা এআইইউডিএফ (AIUDF) প্রধান মহম্মদ বদরুদ্দিন আজমাল ১,০৫,৭৬৯ ভোট পেয়ে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বহু পেছনে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন, যেখানে কংগ্রেস প্রার্থী শিবমণি বোরার প্রচার ও ভোটপ্রাপ্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছে এবং তিনি তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সকালের এই ভোটগণনার প্রবণতা সামনে আসার পর এক শীর্ষ অসমীয়া বিজেপি নেতা সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এখানকার সাধারণ ভোটাররা বিভাজনের রাজনীতিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সরকারের উন্নয়নমূলক এজেন্ডার পক্ষেই তাদের রায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন, কারণ দেবাশিস শর্মার প্রাক্তন নাগাঁও জেলা কমিশনার হিসেবে তাঁর দক্ষ প্রশাসনিক কর্মজীবন ও সুনামই জনগণের মাঝে ব্যাপক সমর্থন অর্জনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এই উপনির্বাচনের ফলাফল শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বরং রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিরোধী দলগুলোর ব্যর্থতা এবং শাসক দলের কৌশলগত সাফল্যের একটি স্পষ্ট দলিল হয়ে উঠছে, যা আগামী দিনে অসমের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এক দূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাছাড়া, নাগাঁওয়ের এই উপনির্বাচনে বিজেপির এই রথযাত্রার বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরগুলো তেমন কোনো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি, যার ফলে কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ উভয় দলের জন্যই এটি এক বিরাট রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং বিরোধী জোটের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্ব এবং কর্মীরা এই প্রাথমিক ফলাফলে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত, কারণ তাদের মতে এই জয় প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের রাজনীতিকেই বেছে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় থাকবে। পরিশেষে, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই দেবাশিস শর্মার এই বিশাল ব্যবধানের লিড শুধু নাগাঁওয়ের রাজনৈতিক মানচিত্রকেই বদলে দিচ্ছে না, বরং রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের বার্তা আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করছে, যার দিকে এখন সমগ্র রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।
