May 21, 2026
image (13)

তীব্র গরমে কার্যত নাজেহাল সাধারণ মানুষের জীবন। মাঝে সামান্য বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম ও তাপপ্রবাহের দাপট কমেনি। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে বাইরে বেরোলেই ঘাম, ক্লান্তি ও অস্বস্তিতে ভুগছেন মানুষ। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও কমে যায়, যা শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, সামান্য কিছু সতর্কতা মেনে চললেই হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। গরমের দিনে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা উচিত। প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়া এবং যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত জল ও তরল খাবার গ্রহণ করাও অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, হিট স্ট্রোকের আগে শরীরে কিছু প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন তীব্র মাথাব্যথা, শরীর দুর্বল, ঝিমুনি, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বমি বমি ভাব। অনেক সময় শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এই লক্ষণগুলিকে অবহেলা করলে পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। কেউ হঠাৎ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবিলম্বে ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যেতে হবে। ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া, কাঁধ, বগল ও কুঁচকিতে বরফ লাগানো এবং ওআরএস বা পর্যাপ্ত জল পান করানো জরুরি। একইসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
অবস্থা গুরুতর হলে রোগীর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। হাঁটাচলায় অসুবিধা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, শরীর থেকে ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও অসংলগ্ন কথা বলা, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, নাড়ির গতি বেড়ে যাওয়া, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা বা অতিরিক্ত গরমে কাজ করার ফলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়। সময়মতো সতর্ক না হলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *