গুয়াহাটি প্ল্যানেটোরিয়ামে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এক অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে শুধুমাত্র কর্মদিবসগুলিতেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ জন দর্শনার্থী এখানে আসছেন, যা সপ্তাহান্তে এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটির দিনগুলিতে আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। মূলত মহাকাশ বিজ্ঞান এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণে শিক্ষার্থী, পরিবার এবং বিজ্ঞানপ্রেমীরা তারামণ্ডলের দিকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হচ্ছেন।
দর্শকদের এই ভিড় সামাল দিতে প্ল্যানেটোরিয়াম কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে অসমীয়া, হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায় নিয়মিত শোর আয়োজন করে থাকে। এর পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রদর্শনী এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিনামূল্যে আকাশ পর্যবেক্ষণের (স্কাই ওয়াচিং) ব্যবস্থাও করা হয়। কনসাল্টিং সায়েন্টিফিক অফিসার বাবুল চন্দ্র বোরা জানান, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISRO) সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগ ও নতুন কর্মসূচির ফলেই জনসাধারণের মধ্যে এই সচেতনতা ও আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বোরা জানান, প্ল্যানেটোরিয়ামে শীঘ্রই অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার বাড়ানো হবে। এর পাশাপাশি একটি নতুন জি+৩ (G+3) বহুতল ভবনে ‘মাল্টি-অ্যাক্টিভিটি সেন্টার’ গড়ে তোলার কাজ চলছে। এই নতুন পরিকাঠামোয় থাকবে একটি ১৫০ আসনের অডিটোরিয়াম এবং একটি অত্যাধুনিক ১৫-ডি (15D) ডিসপ্লে সুবিধা, যা দর্শকদের মহাকাশ ভ্রমণের এক বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা দেবে। সমাজে বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে তোলার জন্য তারামণ্ডলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি, জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার সুবিধার্থে আলোক দূষণ কমানোর আহ্বানও জানান তিনি।
