দেশের দ্রুততম ‘বুলেট ট্রেন’ মানচিত্রে নাম জুড়তে চলেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি। রেল সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি-বারাণসী বুলেট ট্রেন প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক তোড়জোড় শুরু হচ্ছে আগামী জুলাই থেকেই। সেইসঙ্গে ২০২৭ সালের মার্চের ডেডলাইন বেঁধে দিল ভারতীয় রেল। ভারতের উচ্চগতির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী পর্যন্ত একটি অত্যাধুনিক বুলেট ট্রেন করিডর গড়ে তোলার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে ভারতীয় রেল। সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত এই মেগা রেল প্রকল্পের প্রাথমিক রূপরেখা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। আগামী জুলাই থেকেই নিউ জলপাইগুড়ি-বারাণসী বুলেট ট্রেন করিডরের প্রাথমিক সমীক্ষা বা সার্ভের কাজ শুরু হয়ে যেতে পারে। এই উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল হাইস্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেডের (NHSRCL) তরফে একটি বিশেষ সমীক্ষক দল গঠন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের মাধ্যমে ই প্রকল্পের ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ বা ডিপিআর প্রস্তুত হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে, তা জুলাই থেকেই সমীক্ষা চালাবে। এই সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল ট্রেনের চূড়ান্ত রুট বা করিডর ম্যাপ তৈরি করা এবং যাবতীয় প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা। রেলের তরফ থেকে আগামী বছর মার্চের মধ্যে এই প্রকল্পের ডিপিআর প্রস্তুত করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই ডিপিআর চূড়ান্ত হওয়ার পরই তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে রেল বোর্ডে। সেখান থেকে ছাড়পত্র মিললেই পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে রেললাইন নির্মাণের কাজ। শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেনের হাত ধরে উত্তরবঙ্গে আসবে উন্নতির জোয়ার
এমনিতে গত ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় বাজেটে শিলিগুড়ি-বারাণসী বুলেট ট্রেন প্রকল্পের ঘোষণা হতেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক মহল ও পর্যটন মহলে। উত্তরবঙ্গের বণিকসভা এবং পর্যটন সংস্থার কর্তারা মনে করছেন, এই করিডর চালু হলে গোটা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মানচিত্র আমূল বদলে যাবে।
বর্তমানে বারাণসী বা উত্তর ভারতের পর্যটকদের উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স বা পাহাড়ে আসতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। বুলেট ট্রেন চালু হলে তিন ঘণ্টারও কম সময়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা শিলিগুড়ি চলে আসতে পারবেন।
