ভারতের সামরিক নেতৃত্বে এক বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে কেন্দ্র সরকার শুক্রবার নতুন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) এবং নৌসেনা প্রধানের নাম ঘোষণা করেছে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে এই রদবদল ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহানের স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন প্রাক্তন উপ-সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমানি। আগামী ৩০ মে জেনারেল চৌহানের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে, ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে পরবর্তী নৌসেনা প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি অ্যাডমিরাল দিনেশ কুমার ত্রিপাঠির স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি আগামী ৩১ মে অবসর গ্রহণ করবেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রমানি বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। চার দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তিনি অসমে ‘অপারেশন রাইনো’-র অধীনে কাউন্টার-ইনসারজেন্সি (বিদ্রোহ দমন) অভিযানে ১৬ গাড়োয়াল রাইফেলসের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে এবং পশ্চিম সীমান্তে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইক কোরের কমান্ড সামলেছেন। দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘থিয়েটার কমান্ড’ সংস্কার ত্বরান্বিত করা, যার লক্ষ্য হল স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনার মধ্যে অপারেশনাল সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
অন্যদিকে, পরবর্তী নৌসেনা প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন বর্তমানে ওয়েস্টার্ন নেভাল কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৭ সালে নৌবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত এই কর্মকর্তা যোগাযোগ এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধে বিশেষজ্ঞ। তিনি আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ এবং আইএনএস কুলিশের মতো প্রথম সারির যুদ্ধজাহাজের কমান্ড সামলেছেন। তার অসামান্য সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পরম বিশিষ্ট সেবা পদক এবং অতি বিশিষ্ট সেবা পদকের মতো একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে যে, সিডিএস হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রমানি অতিরিক্তভাবে সামরিক বিষয়ক দপ্তরের (DMA) সচিব হিসেবেও কাজ করবেন। ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমির প্রাক্তন ছাত্র সুব্রমানি কিংস কলেজ লন্ডন এবং মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই দুই অভিজ্ঞ সামরিক কর্তার নিয়োগ এমন এক সময়ে করা হল যখন ভারত তার প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও আধুনিক এবং সমন্বিত করার লক্ষ্যে বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের নেতৃত্ব ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে।
