ঋতু পরিবর্তনের সময়ে সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ, গলাব্যথা কিংবা শুকনো কাশির মতো সমস্যা অনেকেরই দেখা যায়। কখনও নাক দিয়ে জল পড়ে, আবার কখনও রাতে শোয়ার পর নাক বন্ধ হয়ে অস্বস্তি বাড়ে। এসব উপসর্গ থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। কেউ কেউ আবার ইন্টারনেটে ওষুধের নাম খুঁজে নিজে থেকেই তা খেতে শুরু করেন।
কিন্তু মনে রাখা দরকার, অধিকাংশ সাধারণ সর্দি-কাশি ভাইরাসের কারণে হয়, যার চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। বরং পর্যাপ্ত বিশ্রাম, জলপান এবং কিছু ঘরোয়া উপায় সাময়িক আরাম দিতে পারে।
মরসুমি সর্দি-কাশিতে আরাম পেতে ৪টি ঘরোয়া উপায়
যষ্টিমধু, গোলমরিচ ও তুলসির পানীয়
এক কাপ জলে অল্প যষ্টিমধু, কয়েকটি গোটা গোলমরিচ ও কিছু তুলসিপাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। জল কিছুটা কমে এলে ছেঁকে হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। এই উষ্ণ পানীয় গলায় আরাম দিতে পারে। তবে যষ্টিমধু সবার জন্য নিরাপদ নয়; উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা কিডনির সমস্যা থাকলে এটি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কালো তিল ও গুড়ের নাড়ু
কালো তিলে ক্যালশিয়াম, আয়রন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে। শুকনো খোলায় তিল হালকা ভেজে গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে ছোট ছোট নাড়ু তৈরি করে নিতে পারেন। এটি পুষ্টিকর জলখাবার হিসেবে খাওয়া যায়। তবে তিল-গুড়ের নাড়ু সর্দি-কাশি বা গলাব্যথা সারায়, এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ডায়াবিটিস থাকলে গুড়ের পরিমাণের দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
শুকনো আদা ও ধনের চা
এক গ্লাস জলে সামান্য শুকনো আদার গুঁড়ো ও ধনে বীজ দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে পান করুন। চাইলে সামান্য মধু মেশাতে পারেন। উষ্ণ পানীয় গলার অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই চা শুকনো কাশি বা অ্যালার্জি সারিয়ে দেয়, এমন প্রমাণ নেই। এক বছরের কম বয়সি শিশুকে কখনও মধু দেওয়া উচিত নয়।
বেসনের শিরা
বেসন, দুধ, সামান্য ঘি, হলুদ ও গোলমরিচ দিয়ে তৈরি করা যায় উষ্ণ বেসনের শিরা। স্বাদ বাড়াতে অল্প আদাও যোগ করতে পারেন। ঠান্ডা লাগলে এই উষ্ণ খাবার শরীরকে আরাম দিতে পারে এবং পুষ্টিও জোগায়।
