অবিরাম বৃষ্টিপাতে শ্রীভূমি জেলার রামকৃষ্ণনগরের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সিঙ্গলা নদীর জলস্তর হঠাত বেড়ে যাওয়ায় আনিপুরে নির্মিত অস্থায়ী ফুটব্রিজটি নদীগর্ভে ভেসে গেছে। এই ঘটনার ফলে রামকৃষ্ণনগরের দক্ষিণ অঞ্চলের বহু এলাকা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার জেরে স্থানীয় জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনিপুর, তিমুখ, দুল্লভছড়া, নিবিয়া এবং রত্নাবাড়ির মতো এলাকাগুলো। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রতিদিনের যাতায়াতে ভয়াবহ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রোগী, ব্যবসায়ী এবং নিত্যযাত্রী—সবার যাতায়াতই এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই আনিপুর ও রামকৃষ্ণনগরকে সংযোগকারী মূল কংক্রিটের সেতুটি ভেঙে পড়েছিল। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সাতটি গাড়ি নদীতে তলিয়ে যায় এবং বহু মানুষ আহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের যাতায়াত ব্যবস্থা সংকটের মুখে ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি অস্থায়ী ফুটব্রিজ তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক লাগাতার বৃষ্টিপাত এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই অস্থায়ী কাঠামোটিও ভেসে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে জরুরি পরিষেবাগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়া করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, বিকল্প সেতু তৈরির কাজ শুরু হলেও তার গতি অত্যন্ত ধীর, যা হাজার হাজার মানুষের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এই মুহূর্তে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনজীবন স্বাভাবিক করতে এবং দ্রুত মজবুত বিকল্প ব্যবস্থার দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেয়।
