April 25, 2026
AAJ 1

রহস্যে মোড়া এক দেশ উত্তর কোরিয়া। শোনা যায়, রাষ্ট্রশক্তির রক্তচক্ষুতে বেহাল সেদেশের জনজীবন। সেখান থেকে পালাতে চান মানুষ। কিন্তু পালাবার পথ কি অতই সহজ? তবে ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়, এ কথা আবারও প্রমাণ করলো  সেদেশের এক পরিবার।

জানা গিয়েছে, একদশকের নিবিড় পরিকল্পনার পরে দেশ ছেড়ে পালাতে পেরেছিলেন তাঁরা। খবর, এই পলায়ন পরিকল্পনার মূল রূপকার ছিলেন পরিবারের কর্তা। কিন্তু পালানোর আগেই প্রয়াত হন তিনি। তবুও তাঁর দুই ছেলে, কিম ইল-হিয়ক ও কিম ই-হিয়ক বাবার স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা বাবার অস্থিভস্ম সঙ্গে নিয়েই যাত্রা করেন।

কিম ই-হিয়ক নিয়মিত উপকূলে যাতায়াত করতেন। মাছ ধরার কাজ শিখেছিলেন। পরে মৎস্যজীবীর পরিচয়ে নজর এড়াতে একটি নিজস্ব নৌকাও কেনেন। দুই ভাই নিয়মিত সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরার কৌশল শিখতেন। দেখেছেন টহলদারির ধরণ, সেনার উপস্থিতি এবং নজরদারির খুঁটিনাটি ইত্যাদি।

২০২৩ সালের ৬ মে। সেদিনের ঝড়ো রাতে সপরিবারে শুরু হয় পলায়ন যাত্রা। দুর্গম আবহাওয়ার কারণে সেসময় রাডার অচল হয়ে পড়ে এবং টহলদারি শিথিল হয়। সেই সুযোগেই এগিয়ে যান তাঁরা। টানা দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ছোট্ট মাছধরার বোটে চেপেই দেশের জলসীমা পেরিয়ে যান ৯ সদস্যের ওই পরিবার।

বর্তমানে পরিবারটি দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করছে। কিম ই-হিয়ক সেখানে একজন রাঁধুনি হিসেবে কাজ করেন। সকলকে শোনান তাঁদের এই রুদ্ধশ্বাস পলায়নের কাহিনি, যা এই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *