ভারতের চা শিল্প এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি ও লক্ষণীয় মূল্য পতনের কারণে শিল্পটির আর্থিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (ITA)। ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মতো প্রধান চা উৎপাদক অঞ্চলে এই সংকট সবচেয়ে প্রকট।
- উৎপাদন হ্রাস: ২০২৪ সালে দেশের সামগ্রিক চা উৎপাদন ২০২৩ সালের তুলনায় ১০৯ মিলিয়ন কেজি কমেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম। ডার্জিলিং-এর উৎপাদন ২০২৪ সালের তুলনায় ১০.৩৪% কম।
- আবহাওয়া ও কীট আক্রমণ: ২০২৫ সালে গড় দৈনিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বেড়েছে এবং বৃষ্টি কম হয়েছে। পাশাপাশি চা বাগানে কীটপতঙ্গের আক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়েছে, ফলে চারা ও বাগানের বৃদ্ধি দুর্বল হয়েছে এবং ফসল উৎপাদনে ঘাটতিও স্পষ্ট।
- মূল্য পতন: উৎপাদনের পাশাপাশি এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত চা নিলামে মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে CTC এবং ডাস্ট চা-র দাম আসামে ৭% এবং দোয়ার্স-তরাই অঞ্চলে ৯.৫% পর্যন্ত কমেছে। এতে শিল্পের আর্থিক টেকসইতা আরও ঝুঁকির মুখে।
- আমদানি বৃদ্ধি: ২০২৪ সালে চা আমদানি ৮২% বেড়েছে, যেখানে নেপাল ও কেনিয়া থেকে চা আমদানি সর্বাধিক। এর ফলে দেশের বাজারে চা সরবরাহ বেড়েছে এবং ঘরোয়া দাম আরও পড়ে গেছে।
- ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী ও ক্ষুদ্র চাষীরা: উৎপাদন ও মূল্য পতনের কারণে বড় ও ক্ষুদ্র চা চাষী এবং শ্রমিকেরা চরম অর্থনৈতিক চাপে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যত সংকটে পড়বে।
ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (ITA) জানিয়েছে, ২০২৫ সাল চা শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনই কার্যকর হস্তক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহন না করা হলে, এই শিল্পের ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাযোগ্যতা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে
