আসামের তিনসুকিয়া জেলার ডুমডুমা ফার্স্ট রেফারেল ইউনিট (FRU) হাসপাতালে ৩০ এপ্রিল রোগীদের অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের ফলে ওই অঞ্চলে জ্বর, ডায়রিয়া, বমি এবং তীব্র মাথাব্যথার মতো ঋতুভিত্তিক অসুস্থতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে বহির্বিভাগে (OPD) রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রাদুর্ভাবে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী, শিশু এবং বয়স্করা। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অসময়ে ভারী বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং হঠাৎ বাড়তে থাকা তাপমাত্রার এই খামখেয়ালি আচরণ পানিবাহিত এবং ভাইরাল সংক্রমণের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।
হাসপাতালে অপেক্ষারত জনৈক স্থানীয় বাসিন্দা শবনম খাতুন জানান, “আবহাওয়া আমাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে, তো পরদিনই অসহ্য গরম ও আর্দ্রতা। আমার মেয়ের গতকাল থেকে বমি ও প্রচণ্ড জ্বর। আমাদের এলাকায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কেউ না কেউ একইভাবে অসুস্থ।”
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ডায়রিয়া এবং বমির কারণে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার সমস্যা নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় হাসপাতালের পরিকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্মীরা, যার ফলে চিকিৎসা পরিষেবায় কিছুটা বিলম্বের খবরও পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সংক্রমণ এড়াতে ফুটিয়ে জল পান করা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রতিনিধিরা ক্রমবর্ধমান এই জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। আগামী কয়েকদিনও আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তা বজায় থাকার পূর্বাভাস থাকায় পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
