ঐতিহাসিক রাজকীয় বাসভবন বাকিংহাম প্যালেসের ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাপক সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পরেও ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এটিকে তাঁর পূর্ণকালীন বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে না। যদিও দীর্ঘকাল ধরে এই প্রাসাদটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তবে বিভিন্ন সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, রাজা হয়তো দৈনন্দিন বসবাসের জন্য অন্যান্য রাজকীয় বাসভবনকেই বেশি পছন্দ করবেন। বাকিংহাম প্যালেসকে তিনি স্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে মূলত সরকারি কাজকর্ম, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং কূটনৈতিক আয়োজনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। প্রাসাদে বর্তমানে যে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি চলছে, তা এর অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধি এবং শতবর্ষী এই ভবনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসমূহ উন্নত করার দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টারই অংশ। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রয়োজনীয় কাজের বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং রাজপরিবারের সদস্যদের পরিবর্তিত পছন্দ-অপছন্দ—উভয় বিষয়ই ভবিষ্যতে এই প্রাসাদের ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিবর্তে রাজা তাঁর সময় বিভিন্ন রাজকীয় এস্টেটের মধ্যে ভাগ করে নেবেন এবং বসবাসের ক্ষেত্রে আরও নমনীয় ব্যবস্থা বজায় রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিষয়টি রাজপরিবারের সম্পত্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিফলন; এর মাধ্যমে ঐতিহ্য ও বাস্তবতার পাশাপাশি কর্মপরিচালনাগত প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাকিংহাম প্যালেস রাজতন্ত্রের প্রধান প্রতীক এবং জাতীয় উৎসব ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে ঠিকই, কিন্তু প্রধান বাসভবন হিসেবে এর ব্যবহার হয়তো সীমিতই থাকবে। স্থায়ীভাবে বসবাসের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি; সংস্কার পরিকল্পনা আরও এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
