মে মাসের শুরু থেকেই ভারতের সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রান্নার গ্যাস (কমার্শিয়াল), দুধ, পেট্রোল-ডিজেল থেকে শুরু করে সিএনজি—সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) মূল্যবৃদ্ধি ভারতীয় অর্থনীতিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে টাকার অবমূল্যায়নও এই মূল্যবৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
১লা মে থেকে সরকারি তেল সংস্থাগুলি কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৯৯৩ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে দিল্লিতে ১৯ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৩,০৭১.৫০ টাকা। মুম্বইসহ দেশের বড় শহরগুলিতেও দাম ৩০০০ টাকার আশেপাশে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দামে এই মাসে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD) নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক (Import Duty) ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেশবাসীকে সোনা কেনা কমানোর আবেদনের পরেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গয়নার বাজারে দাম অনেকটাই বাড়বে বলে আশঙ্কা
গত ১৩ মে দেশের দুই প্রধান দুগ্ধ বিপণন সংস্থা, আমুল (Amul) এবং মাদার ডেয়ারি (Mother Dairy) প্রতি লিটারে ২ টাকা করে দাম বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। সংস্থাগুলির দাবি, গত এক বছরে কৃষকদের থেকে দুধ সংগ্রহের খরচ প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা সমন্বয় করতেই এই মূল্যবৃদ্ধি।
১৪ মে মুম্বইতে সিএনজির দাম প্রতি কেজিতে ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮৪ টাকা। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ১৫ মে, দিল্লিতেও সিএনজির দাম ২ টাকা বাড়িয়ে ৭৯.০৯ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে অটোরিকশা ও ট্যাক্সি ভাড়ায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।
