শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি ভিটামিন ডি-র প্রধান উৎসই হল সূর্যালোক। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে বাইরে বেরনো মুশকিল। এর মধ্যেও কীভাবে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি বজায় রাখা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি আসলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রো-হরমোন, যা শরীরে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে এবং হাড়কে মজবুত রাখে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হলে নানা সমস্যা হতে পারে।
শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির জন্য প্রয়োজন সূর্যের অতিবেগনি বি (ইউভি বি) রশ্মি। কিন্তু খুব ভোরের নরম রোদে সেই রশ্মির মাত্রা কম থাকে। আবার দুপুরের দিকে ইউভি বি সক্রিয় হলেও সেই সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন বা ত্বকের ক্ষতির আশঙ্কা বেড়ে যায়।
সোলার জেনিথ অ্যাঙ্গলের কারণে খুব সকালে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হয় না। তার উপর বায়ুদূষণও ইউভি বি রশ্মির প্রবাহে বাধা দেয়। সানস্ক্রিন ব্যবহারে প্রায় ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ ইউভি বি শোষিত হয়ে যায়। তবে যে সামান্য অংশ ত্বকে পৌঁছায়, তা থেকেও কিছুটা ভিটামিন ডি তৈরি হতে পারে।
তবে গরমের তীব্রতা মাথায় রেখে চিকিৎসকেরা সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে সীমিত সময় রোদে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এই সময়ে সূর্যের আলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও ভিটামিন ডি তৈরির জন্য যথেষ্ট কার্যকর বলে মত তাঁদের।
তবে, সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। গায়ের রং, বয়স, বসবাসের এলাকা এবং কতটা রোদ পাচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির হার। সাধারণভাবে গায়ের রং গাঢ় হলে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রোদে থাকার প্রয়োজন হতে পারে। তুলনায় ফর্সা ত্বকের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ মিনিটই যথেষ্ট।
শুধু সূর্যালোক নয়, কিছু খাবার থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ, ফর্টিফায়েড দুধ, ফর্টিফায়েড দানাশস্য, কড লিভার অয়েল এবং মাশরুম থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভিটামিন ডি পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে সাপ্লিমেন্টও নিতে পারেন।
