July 8, 2026
AAJ 1

নেপালে ১৪ বছরের ব্যবধানে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করার অভিযোগ উঠল এক বুনো হাতির বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, গত ৪ জুলাই রাতে চিতওয়ান জেলার জগৎপুর এলাকায় একটি বাড়িতে হামলা চালায় ‘ধুরবে’ নামের ওই হাতি। এতে শনিচারা বোটের ২৫ বছর বয়সী পুত্রবধূ এবং চার বছর বয়সী নাতি নিহত হয়।

এর আগে ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় একই হাতির আক্রমণে শনিচারা বোটের বাবা বুধিরাম ও মা ঝারালি পদপিষ্ট হয়ে নিহত হন। ওই ঘটনার পর প্রাণভয়ে পরিবারটি আগের বাসস্থান থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরের জগৎপুরে বসবাস শুরু করে। তবুও রক্ষা পেলেন না তাঁরা।

খবর, হামলার রাতে বাড়ির দেয়ালে প্রচণ্ড ধাক্কার শব্দ শুনতে পান শনিচারার স্ত্রী। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতিটি কাঁচা মাটির দেয়াল ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলেও হাতির হানায় মৃত্যু হয় পুত্রবধূ ও শিশুর। পরে শনিচারার স্ত্রী শুকনো খড়ে আগুন জ্বালিয়ে হাতিটিকে তাড়াতে সক্ষম হলেও আগুনে পুড়ে নষ্ট হয় বাড়িটি।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অল্প বয়সে প্রভাবশালী পুরুষ দাঁতাল হাতিদের দ্বারা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর ‘ধুরবে’ একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে মানুষের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ গড়ে ওঠে তার।

হাতিটি প্রথমবার ২০১০ সালে একজন মানুষকে হত্যা করে। ২০১২ সালের প্রাণঘাতী হামলার পর বন বিভাগ বিশেষ অভিযান চালিয়ে হাতিটিকে হত্যা করার চেষ্টা করে। অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হলেও সেটি বনাঞ্চলে পালিয়ে যায়। পরে কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, আঘাতের কারণে হাতিটি মারা গিয়েছে। তবে ২০১৬ সালে সেটিকে আবার সুস্থ অবস্থায় জঙ্গলে বিচরণ করতে দেখা যায়।

চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের তথ্য ও সংরক্ষণ কর্মকর্তা অবিনাশ থাপা মাগার জানান, হাতিটির গলায় একটি স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং কলার পরানো রয়েছে। এর সাহায্যেই নিশ্চিত হওয়া যায়, ৪ জুলাই রাতে হামলার সময় ‘ধুরবে’ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *