২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে অভূতপূর্ব সাফল্যের মুখ দেখল আদানি গ্রুপ। দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে গতি এনে এই অর্থবর্ষে রেকর্ড ১.৫৩ ট্রিলিয়ন টাকা (প্রায় ১৬.১ বিলিয়ন ডলার) মূলধনী ব্যয় বা ‘ক্যাপেক্স’ করেছে আদানি গোষ্ঠীর কোম্পানিগুলি। যা ভারতের যেকোনো কর্পোরেট গ্রুপের ইতিহাসে এক বছরে করা সর্বোচ্চ বিনিয়োগ। একই সাথে, এই সময়ে গ্রুপটির ইবিটডা (EBITDA) বা পরিচালন মুনাফা সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়ে ৯৪,৮৩৪ কোটি টাকায় (প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার) পৌঁছেছে। বার্ষিক ফলাফলের ভিত্তিতে জানা গেছে, আদানি গ্রুপের সমন্বিত ইবিটডা আগের বছরের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদানি গ্রুপ ঋণের মাত্রা বা লিভারেজ তাদের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যের নিচেই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। আর্থিক এই বিশাল বিনিয়োগের ফলে আদানি পোর্টফোলিওর মোট সম্পত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৮৫ ট্রিলিয়ন টাকায় (প্রায় ৮২.৮ বিলিয়ন ডলার)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদানি গ্রুপের এই বিশাল বিনিয়োগের প্রায় ৮০ শতাংশই খরচ হয়েছে দেশের মূল পরিকাঠামো খাতের উন্নয়নে। যার মধ্যে প্রধান হলো জ্বালানি, ইউটিলিটি, পরিবহন এবং লজিস্টিকস ব্যবসা। ভারতের জাতীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই ক্ষেত্রগুলিতে বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে।
এই বিপুল বিনিয়োগের সুফলও মিলতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু মেগা প্রজেক্ট বা বড় প্রকল্প পুরোদমে চালু হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ৫.১ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রকল্প, উন্নত ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, বহুল প্রতীক্ষিত নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গুয়াহাটি টার্মিনাল, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং একটি তামা গলানোর কারখানা (কপার স্মেল্টার)। সব মিলিয়ে, নিয়ন্ত্রিত ঋণ এবং রেকর্ড প্রবৃদ্ধির সমীকরণ ধরে রেখে দেশের শিল্পখাতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল আদানি গোষ্ঠী।
