অরুণাচল প্রদেশ সরকারের নতুন ইনার লাইন পারমিট (ILP) নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে অসমের শ্রমিক মহলে। কঠোর নিয়মের জেরে সোমবার সকালে অসমের তিনসুকিয়া জেলার টালাপ ও ধোলা অঞ্চল থেকে আসা শতাধিক শ্রমিককে অরুণাচলের লোয়ার দিবাং উপত্যকায় প্রবেশের মুখে সাদিয়ার সীমান্তেই আটকে দেওয়া হয়। বৈধ শ্রম পারমিট এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় তাঁদের প্রতিবেশী রাজ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসমে কর্মরত শ্রমিক এবং ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অল অসম টি ট্রাইব স্টুডেন্টস ইউনিয়নের নেতা ধন ভক্ত সরকারের এই নিয়মকে স্বাগত জানালেও প্রশাসনের এনফোর্সমেন্ট প্রক্রিয়ার অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, অরুণাচলের অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ও ঠিকাদাররাই নিয়ম লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের নিয়ে যান, কিন্তু প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এতদিন ধরে মাথা পিছু মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকার বিনিময়ে বহু শ্রমিককে অবৈধভাবে অরুণাচলে প্রবেশ করানো হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শ্রমিকদের একাংশের দাবি, সঠিক নথিপত্র না থাকায় কর্মক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাঁরা কোনো সরকারি সাহায্য বা ক্ষতিপূরণ পান না। পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে যাওয়া এই শ্রমিকদের সুরক্ষায় একটি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, ‘অরুণাচল প্রদেশ আইএলপি নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর বিরুদ্ধে সে রাজ্যেও ‘এসটি বাঁচাও আন্দোলন কমিটি’র প্রতিবাদে পরিস্থিতি জটিল রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন নিয়মটি ১৮৭৩ সালের বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশনকে লঙ্ঘন করছে, যা স্থানীয় আদিবাসীদের স্বার্থের পরিপন্থী। এই অচলাবস্থা নিরসনে ঠিকাদারদের সমস্ত আইনি নথিপত্র সম্পূর্ণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
