গুৱাহাটী, ৩১ জুলাই ২০২৫ — অসম সরকার উরিয়ামঘাটে ১০,০০০ বিঘা বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে রাজ্যের জমি পুনরুদ্ধার অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। এই অভিযানের ফলে রাজ্যজুড়ে মোট ১.৩৯ লক্ষ বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
এই উচ্ছেদ অভিযানটি গোলাঘাট জেলার রেঙ্গমা বনাঞ্চলে পরিচালিত হয়েছে, যা অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তের বিতর্কিত এলাকা বেল্ট (Disputed Area Belt – DAB)-এর অন্তর্গত। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, নাগাল্যান্ড সরকার, নাগাল্যান্ড পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) সহায়তায় এই অভিযান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানটি পাঁচটি প্রধান এলাকায় পরিচালিত হয়েছে: দয়ালপুর নং ২ ও ৩, দলানিপথার নং ৩, খেরাবাড়ি এবং আনন্দপুর। গোলাঘাট জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ যৌথভাবে অবৈধ নির্মাণ ও সুপারি বাগান ধ্বংস করেছে। প্রায় ৩০০ জন বাসিন্দা এই অভিযানে প্রভাবিত হয়েছেন, যদিও কোনো বড় ধরনের অশান্তি ঘটেনি।
জেলা উপায়ুক্ত পুলক মহন্তা জানান, বুধবার পর্যন্ত প্রায় ২৫০ হেক্টর (প্রায় ১,৮৭৫ বিঘা) জমি মুক্ত করা হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাকি জমিও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। উরিয়ামঘাটে মোট ১১,০০০ বিঘা জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
অসম সরকার দাবি করেছে, অধিকাংশ দখলদার মুসলিম-প্রধান জেলা যেমন নগাঁও, মোরিগাঁও, শোণিতপুর, কাছাড়, ধুবড়ি, বরপেটা ও হোজাই থেকে এসেছে, এবং কিছু পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার থেকেও এসেছে। অনেকেই বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম, যারা উচ্ছেদের আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
নাগাল্যান্ড সরকার সীমান্তবর্তী জেলাগুলিকে সতর্কতা জারি করেছে যাতে উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলির অনুপ্রবেশ রোধ করা যায়। এদিকে NSCN (Niki) গোষ্ঠী এই উচ্ছেদকে নাগা জনগণের ঐতিহ্যবাহী জমি দখলের ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছে।
গত চার বছরে ১.২৯ লক্ষ বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, এবং এখনও প্রায় ২৯ লক্ষ বিঘা জমি অবৈধভাবে দখল রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শর্মা পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে রাজ্য সরকার বন ও সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবে।
