১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক যুদ্ধে ভারতের নির্ণায়ক বিজয়ের স্মরণে সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে বিজয় দিবস। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মুক্তি নিশ্চিত হয় ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটে। বিজয় দিবস উপলক্ষে ভারতীয় সেনা ও দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সশস্ত্র বাহিনীর সাহস, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কৌশলগত দক্ষতা, ঐক্যবদ্ধ অভিযান ও দৃঢ় সংকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নির্ণায়ক সমর্থন জুগিয়েছিল। এই অভিযানের ফলস্বরূপ ব্যাপক অত্যাচার ও নিপীড়নের অবসান ঘটে ও মাত্র ১৩ দিনের মধ্যেই প্রায় ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হয়। ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামরিক আত্মসমর্পণ হিসেবে এই ঘটনাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার, বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলির পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর নীতি ও দেশের সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিজয় দিবস তাই শুধু এক সামরিক সাফল্যের স্মরণ নয়, বরং ভারত ও মুক্তিযোদ্ধাদের যৌথ আত্মত্যাগ ও বন্ধুত্বের চিরস্মরণীয় নিদর্শন হিসেবেও দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
