মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে ইসলামাবাদ সব ধরনের কূটনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষই পাকিস্তানের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইরান সরকারের মধ্যে বাকযুদ্ধ ও সামরিক উত্তজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই আলোচনার প্রক্রিয়াটি সরাসরি বা পরোক্ষ—উভয়ভাবেই হতে পারে এবং সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে টেলিফোনে আলাপ করেছেন।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই আলোচনার সফল হওয়া জরুরি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা এখন সময়ের দাবি। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, তবে পর্দার আড়ালে পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর আগ্রহের সাথে ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে, কারণ আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতাই বলে দেবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে। এই উদ্যোগ সফল হলে তা দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক গুরুত্বকে আরও সুসংহত করবে।
