February 21, 2026
Screenshot 2026-02-21 170245

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পারস্পরিক শুল্ক নীতি অবৈধ ঘোষণা করার পর ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে দেওয়া এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানায় যে, ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট এককভাবে এমন ব্যাপক শুল্ক চাপাতে পারেন না। এই রায়ের ফলে ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের চাপানো উচ্চহারের শুল্ক অনেকটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা এই আইনি পরিবর্তনের সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছে।

মার্কিন শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বিকল্প পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন। আদালত শুল্ক বাতিল করলেও, ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে নতুন একটি ডিক্রি জারি করে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য সমস্ত আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ বা বিশ্বজনীন শুল্ক কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন। যদিও এটি আগের ১৮ শতাংশ বা ২৫ শতাংশ শুল্কের তুলনায় কম, তবুও ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যে এর প্রভাব ঠিক কী হবে তা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

ভারতের বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারকে সতর্ক করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির শর্তগুলো নতুন করে আলোচনার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতীয় রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা এই আইনি জয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এতে একতরফা শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কিছুটা হলেও সীমিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে এক ধরণের অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে, তা স্পষ্ট। ভারত সরকার এখন আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *