মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক ভাষণের পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার কড়া বার্তার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক উসকানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী তাদের আক্রমণ থামাবে না। তিনি ইরানকে ‘কঠোরভাবে আঘাত’ করার হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযান আরও তীব্রতর করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটি এই উত্তেজনার ফলে অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডাব্লিউটিআই (WTI) উভয় ধরনের তেলের দামেই এই উল্লম্ফন দেখা গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানকে তার কৃতকর্মের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে এবং মার্কিন লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটার কোনো সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্ব শেয়ার বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে সূচকের পতন লক্ষ্য করা গেছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তবুও বৈশ্বিক বাজারে এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের নাগালে থাকা জ্বালানি তেলের মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে এবং ট্রাম্পের এই সরাসরি ‘অ্যাটাক’ বা আক্রমণের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
