ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হোরমুজ প্রণালী পুনর্দখল এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় ন্যাটোর (NATO) সহযোগিতা না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এবং তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ন্যাটো জোটের সদস্যদের এই পিছুটানকে একটি “বড় ধরনের ভুল” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, আমেরিকা গত কয়েক দশকে ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোর সুরক্ষায় শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, অথচ প্রয়োজনে এই মিত্র দেশগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের মতো দীর্ঘদিনের সহযোগীদের রণতরি না পাঠানোর সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, এই অংশীদারিত্ব বর্তমানে কেবল একটি “একমুখী রাস্তায়” পরিণত হয়েছে।
তবে মিত্রদের অসহযোগিতার পরেও ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জয়ী হতে আমেরিকার আসলে কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তিনি দাবি করেন, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র আক্রমণে ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন সামরিক শক্তি এখন এতটাই সুসংহত যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো সাহায্য না করলেও আমেরিকা একাই এই মিশন সফল করতে সক্ষম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরাই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ, তাই আমাদের কারো সাহায্যের দরকার নেই—আসলে কখনোই ছিল না।” মিত্রদের এই উদাসীনতা ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে, যদিও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই জোট থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি আপাতত তার বিবেচনায় রয়েছে।
