February 12, 2026
tripura 1

আগামী কয়েক বছরে চাষযোগ্য জমির ৮০% সেচ কভারেজ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ত্রিপুরা সরকার। এর পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এরমধ্যে রয়েছে ৪৩টি বন্যা সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদীর তীরবর্তী এলাকা রক্ষণাবেক্ষণ করা। মঙ্গলবার রাজস্থানের উদয়পুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অল ইন্ডিয়া স্টেট ওয়াটার মিনিস্টার্স কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।  কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের অধীন জাতীয় জল মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমি এই সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে খুবই আনন্দিত। আমাদের ত্রিপুরা রাজ্য দেশের মধ্যে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য। যা ১০,৪৯১ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। এটা বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চল, যা ৭০ শতাংশ বনভূমি নিয়ে বিস্তৃত। মূলত, এখানকার অধিকাংশ মানুষ জীবনজীবিকার জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীল। দ্রুত প্রবাহিত নদী ও সীমিত জল সঞ্চয় করার সুযোগের কারণে রাজ্যে জল-ভিত্তিক সেচ প্রকল্পের খুব কম সুযোগ রয়েছে। তাই কৃষি ক্ষেত্রের অধিক উন্নয়ন ও কৃষকদের আর্থিক অবস্থার মানোন্নয়নে উন্নত সেচ ব্যবস্থার উপর জোর দিয়েছে ত্রিপুরা সরকার।

                              মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ত্রিপুরায় ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার রয়েছে। দীর্ঘ বর্ষাকাল ও বিস্তৃত বনাঞ্চল থাকায় আমাদের রাজ্যে প্রচুর ভূগর্ভস্থ জলের সংস্থান রয়েছে। আমরা জাতীয় গড়ের তুলনায় ভূগর্ভস্থ জলের মাত্র ৯.৪৮% ব্যবহার করি। সেচ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা ও পানীয়জলের সমস্যা নিরসনে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনে জোর দেওয়া হয়েছে।

                                   সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, ৪,৩৪৭টি স্কুলে (৯৬%) এবং ৮৮,৪৩৫টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে (৯৬.১০%) নলের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সমস্ত গ্রামীণ এলাকায় ২০২৫ এর ৩১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০০% কভারেজ অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শহর এলাকায় আমরা ত্রিপুরার ১২টি শহরে ২৪x৭ পানীয়জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে এডিবি থেকে সহায়তা নেওয়া হয়েছে। অমৃত ২.০ এর অধীনে আমরা ৮টি শহর জুড়ে পানীয়জল সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ করেছি। মুখ্যমন্ত্রী নগর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে আগরতলা এবং অন্যান্য জায়গায় থাকা জলের উৎসগুলি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার ১০টি বড় নদী রয়েছে, যা দ্রুত প্রবাহিত হয়। বর্ষার সময় এসকল নদীর তীরবর্তী এলাকা ক্ষয়ের দরুণ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। গত বছর ত্রিপুরা রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত প্রত্যক্ষ করেছিল এবং আমাদের বেশিরভাগ নদী অধিক বন্যার জলের রেকর্ড স্থাপন করেছিল। বন্যার ফলে রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আমাদের সরকার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৪৩টি বন্যা সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদী তীরবর্তী এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *