২০২৬ সালের ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স বা রাজকোষ স্বাস্থ্য সূচকে উত্তর-পূর্ব ও হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে অরুণাচল প্রদেশ। নীতি আয়োগের এই সাম্প্রতিক রিপোর্টে উত্তরাখণ্ড ও ত্রিপুরা যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তবে উত্তর-পূর্বের প্রধান রাজ্য অসম এই তালিকায় মেঘালয়ের নিচে, অর্থাৎ পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে।২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত রাজকোষের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে পাঁচটি প্যারামিটারের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সেগুলি হলো— ব্যয়ের গুণমান, রাজস্ব সংগ্রহ, রাজকোষ শৃঙ্খল (Fiscal Prudence), ঋণ সূচক এবং ঋণের স্থায়িত্ব।
২০১৫-১৬ সালে এই তালিকায় শীর্ষে থাকা অসম বর্তমানে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজস্ব সংগ্রহ এবং ঋণ সূচকে অসমের পারফরম্যান্স ভালো হলেও ‘রাজকোষ শৃঙ্খল’ বা ফিসকাল প্রুডেন্সের ক্ষেত্রে রাজ্যটি বেশ দুর্বল। মেঘালয় (৪১.৫ পয়েন্ট) এবং অসম (৩৯.১ পয়েন্ট) এই তালিকায় মাঝের অবস্থানে রয়েছে। মেঘালয় ব্যয়ের গুণমান এবং অনুকূল ঋণ সূচকের কারণে ভালো অবস্থানে থাকলেও মিজোরাম ও সিকিমের ফলাফল মিশ্র। মিজোরাম রাজকোষ শৃঙ্খলায় ভালো করলেও ঋণের স্থায়িত্ব নিয়ে ধুঁকছে। অন্যদিকে, নাগাল্যান্ড রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে হিমাচল প্রদেশ এবং মণিপুর।
অসমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক হলো উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগ। ২০২০-২১ সালের তুলনায় ২০২৩-২৪ সালে উন্নয়নমূলক ব্যয় প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ (প্রায় ৬২ শতাংশ) বেতন, পেনশন এবং প্রশাসনিক কাজেই খরচ হয়ে যাচ্ছে, যা নতুন কোনো বড় প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দে বাধা সৃষ্টি করছে।
নীতি আয়োগের এই রিপোর্ট স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোকে কেবল রাজস্ব বাড়ালেই চলবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ঋণের বোঝা কমানো এবং রাজকোষ শৃঙ্খলার দিকে আরও নজর দিতে হবে।
