March 12, 2026
দাবি মানার আশ্বাসে টিপুক চা-বাগানের কর্মীদের অনশন স্থগিত

ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রতিশ্রুতি শ্রম দফতরের, দীর্ঘদিনের বকেয়া নিয়ে আলোচনার আশা

আসামের টিপুক চা-বাগানের কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের অনশন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। জেলা শ্রম দফতরের পক্ষ থেকে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আশ্বাস দেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনরত কর্মীরা।
চা-বাগানের কর্মীরা দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন, পেনশন ও গ্র্যাচুইটির মতো বিভিন্ন দাবি পূরণের দাবিতে গত ৯ মার্চ থেকে আন্দোলন শুরু করেন। মোট ১৪ দফা দাবিকে সামনে রেখে প্রথমে ৯ ও ১০ মার্চ তাঁরা বাগানের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। পরে দাবি পূরণের চাপ বাড়াতে বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন কর্মীরা।
এই চা-বাগানটি বর্তমানে আইটিএএস প্রভাত এলএলপি-র অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা আগে জেমস ওয়ারেন টি কোম্পানির মালিকানায় ছিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০২১ সাল থেকেই তাঁদের নানা সমস্যার কথা বারবার বাগান কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে একাধিক বৈঠকও হয়েছে, কিন্তু সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অসম চাহ কর্মচারি সংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ঋষভ কলিতা জানান, কর্মীদের অভিযোগ মেটানোর জন্য ৯ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেও বাগান কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় কর্মীরা আন্দোলন আরও জোরদার করতে বাধ্য হন।
পরিস্থিতি পরিবর্তন হয় যখন তিনসুকিয়া জেলার সহকারী শ্রম কমিশনার আন্দোলনস্থলে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আশ্বাস দেন যে কর্মী, বাগান কর্তৃপক্ষ এবং শ্রম দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১২ মার্চ তিনসুকিয়ায় একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কর্মীদের সব দাবি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
এই আশ্বাসের পর কর্মীরা আপাতত অনশন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে অসম চাহ কর্মচারি সংঘ জানিয়েছে, আলোচনায় সন্তোষজনক সমাধান না হলে রাজ্যের ৮০০-রও বেশি চা-বাগানের কর্মীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে জেমস ওয়ারেন টি কোম্পানি থেকে আইটিএএস প্রভাত এলএলপি-র হাতে মালিকানা বদলের পর থেকেই টিপুক চা-বাগানের কর্মীরা নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য রাজ্যের শ্রমমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও দাবি করেছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *