পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। হরমুজ প্রণালীর ‘ডেডলাইন’ বা চূড়ান্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, যদি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত রাখা বা পুনরুদ্ধারের জন্য মূলত তিনটি সম্ভাব্য উপায়ের কথা চিন্তা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, কূটনৈতিক সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা। এই প্রক্রিয়ায় বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হয়, যাতে কোনো প্রকার সামরিক সংঘাত ছাড়াই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তৃতীয় কোনো দেশ বা জাতিসংঘ এই মধ্যস্থতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে।
দ্বিতীয় পথটি হলো সামরিক শক্তি প্রয়োগ বা এসকর্ট মিশন পরিচালনা করা। যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্ব শক্তিগুলো তাদের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা প্রদান করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক পাহারায় প্রণালী পার করে দেওয়া হয়। তবে এই পদ্ধতিতে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে, কারণ যেকোনো ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থেকে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তৃতীয় এবং চূড়ান্ত উপায়টি হলো মাইন অপসারণ এবং সরাসরি নৌশক্তি ব্যবহার করে অবরোধ ভেঙে দেওয়া। যদি প্রণালীতে মাইন স্থাপন করা হয় বা কৃত্রিম বাধা তৈরি করা হয়, তবে উন্নত প্রযুক্তির মাইন সুইপার জাহাজ ব্যবহার করে পথ পরিষ্কার করা এবং সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই সংকটের সমাধান কোন পথে আসবে তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে বিশ্বনেতারা যুদ্ধের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সময়ের কাঁটা যত দ্রুত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কোনো ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারে কি না, নাকি বিশ্ব আরেকটি বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ে। এই সংকট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ।
