ইরানের বৃহত্তম সেতুতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধ্বংসাত্মক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এক চরম শিখরে পৌঁছেছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরান একটি ‘হিট-লিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, তাদের জাতীয় অবকাঠামোয় আঘাত হানার পরিণাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তেহরানের সামরিক কৌশলবিদরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আটটি সেতু ধ্বংস করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। মূলত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষাকারী এই স্থাপনাগুলো এখন বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে মার্কিন হামলার পর ইরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি তেহরান সত্যিই এই আটটি সেতুতে আক্রমণ চালায়, তবে তা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে এবং এর বদলা নিতে তারা বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো এই হুমকির মুখে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানালেও বর্তমানে পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
