আসামের বিখ্যাত কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান এবং ব্যাঘ্র সংরক্ষণের বন্যপ্রাণী রক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হল ‘সোফি’। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এই K9 স্নিফার কুকুরটি তার সাহস ও দক্ষতার মাধ্যমে চোরাশিকার বিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সোফি তার তীক্ষ্ণ ঘ্রাণশক্তির সাহায্যে চোরাশিকারীদের হদিস খুঁজে বের করে এবং মূল্যবান বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বনকর্মীদের সহায়তা করে।
আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর, ২০২৫) আসামের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী চন্দ্র মোহন পাটোয়ারী সোশ্যাল মিডিয়ায় (X প্ল্যাটফর্মে) সোফির ব্যতিক্রমী পরিষেবার প্রশংসা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “কাজিরাঙ্গার সবচেয়ে কিউট অথচ দুর্ধর্ষ K9 স্নিফার ডগ সোফির সাথে পরিচিত হন! ওর মিষ্টি চেহারায় ভুলবেন না; চোরাশিকারীদের শনাক্ত করতে ও এক যন্ত্রের মতো কাজ করে। আমাদের এই অঘোষিত নায়ক এবং বিশ্বস্ত বন্ধু সোফি, কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান ও ব্যাঘ্র সংরক্ষণের মূল্যবান বন্যপ্রাণী রক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। সংরক্ষণের জন্য আমরা একসাথে দৃঢ়।”
জার্মান শেফার্ড প্রজাতির এই কুকুরটি কাজিরাঙ্গায় মোতায়েন থাকা বিশেষ K9 ইউনিটের অংশ। সোফিকে বন্যপ্রাণী পাচারের নিষিদ্ধ সামগ্রী শনাক্ত করা, লুকিয়ে থাকা চোরাশিকারীদের অবস্থান চিহ্নিত করা এবং বনরক্ষীদের চোরাশিকার বিরোধী অভিযানে সহায়তা করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোফির দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা এবং ঘ্রাণশক্তির কারণে গত এক বছরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে।
বন কর্তৃপক্ষ প্রায়শই সোফিকে “কাজিরাঙ্গার নীরব প্রহরী” হিসাবে উল্লেখ করে, যার আনুগত্য ও নিখুঁত কাজের ধরনে সোফি রাজ্যটির সংরক্ষণ মিশনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। সোফির উপস্থিতি শুধুমাত্র উন্নত বন্যপ্রাণী সুরক্ষা কৌশলকেই তুলে ধরে না, প্রকৃতি ঐতিহ্য রক্ষায় মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বন্ধনকেও ফুটিয়ে তোলে।
