বর্তমান ডিজিটাল যুগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো বিশ্বব্যাপী বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে, যার মূল চালিকাশক্তি হলো সাধারণ ব্যবহারকারী এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তৈরি করা বিভিন্ন ভিডিও, ছবি এবং লেখা। অথচ এই বিপুল আয়ের খুব সামান্য অংশই সরাসরি সেইসব স্রষ্টাদের কাছে পৌঁছায় যারা দিনরাত পরিশ্রম করে প্ল্যাটফর্মগুলোকে সচল রাখছেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দাবিতে বিশ্বজুড়ে ‘ক্রিয়েটর ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতির প্রবক্তারা সোচ্চার হচ্ছেন। তাঁদের মতে, প্ল্যাটফর্মগুলো আসলে একটি ডিজিটাল জমিদারের মতো কাজ করছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে শ্রম দিচ্ছেন এবং প্ল্যাটফর্মগুলো সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন বিক্রি করে মুনাফা লুটছে। এই বৈষম্য দূর করতে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টদের উচিত একটি স্বচ্ছ এবং ন্যায্য লভ্যাংশ বণ্টন নীতি গ্রহণ করা, যাতে সৃজনশীল কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য কমানোর জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন জরুরি। যদি কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের প্রাপ্য লভ্যাংশ না পান, তবে দীর্ঘমেয়াদে মানসম্মত সৃজনশীল কাজের অভাব দেখা দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের ক্ষতি করবে। বর্তমানে কেবল ইউটিউব বা কিছু সীমিত প্ল্যাটফর্ম সরাসরি আয়ের অংশ শেয়ার করলেও, অনেক বড় বড় সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এখনও ব্যবহারকারীদের তথ্য ও সৃজনশীলতাকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে নিজেরাই সম্পূর্ণ লাভ পকেটে ভরছে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের উচিত তাদের মোট আয়ের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে সেইসব মানুষের মধ্যে বণ্টন করা, যাদের কারণে এই প্ল্যাটফর্মগুলো আজ জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। এর ফলে কেবল সৃজনশীলতাই উৎসাহিত হবে না, বরং ইন্টারনেটের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
