নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট — ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির পঞ্চম ও শেষ টেস্টে মোহাম্মদ সিরাজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভারতকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়। তবে সাবেক ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার দীপ দাসগুপ্তের মতে, সিরাজের হৃদয় নয়, তার নেতৃত্বগুণই এই সিরিজে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।
শেষ দিনে মাত্র ছয় রানের ব্যবধানে সিরিজ সমতায় আনতে সিরাজ ছুঁড়েছিলেন ১৪৩ কিমি/ঘণ্টা গতির ইয়র্কার, যা ইংল্যান্ড ব্যাটার গাস অ্যাটকিনসনের স্টাম্প ভেঙে দেয়। সিরাজের “সিউউ” উদযাপন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, সেই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে তোলে।
পাঁচ টেস্টে ২৩ উইকেট নিয়ে সিরাজ সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। ১৮৫.৩ ওভার বল করে, বিশেষ করে শেষ ইনিংসে ৩০.১ ওভার, তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন তার ধৈর্য, আগ্রহ এবং মানসিক দৃঢ়তা।
দীপ দাসগুপ্ত বলেন, “সিরাজের হৃদয়ের খেলা আমরা আগেও দেখেছি। কিন্তু এবার যা আলাদা করে চোখে পড়েছে তা হলো তার নেতৃত্বগুণ। বুমরাহ না থাকায় সিরাজই দলের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, আকাশ দীপদের সঙ্গে আলোচনা করে, পরিস্থিতি অনুযায়ী বলের ধরন বদলে, তিনি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সিরাজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ, চাপের মধ্যে স্থির থাকা এবং সঠিক সময়ে সঠিক বল করা—এই গুণগুলোই তাকে একজন প্রকৃত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।”
প্রথম টেস্টে সিরাজের পারফরম্যান্স ছিল অনুজ্জ্বল। কিন্তু পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তিনি আউটসুইং বাদ দিয়ে ‘ওবল’ ডেলিভারি ব্যবহার করেন, যা তাকে আরও নিয়ন্ত্রণ দেয়। শেষ টেস্টে আবার আউটসুইংয়ে ফিরে গিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেন, যা তার কৌশলগত গভীরতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।
এই সিরিজে মোহাম্মদ সিরাজ শুধু একজন দুর্দান্ত পেসারই নন, বরং একজন নেতৃত্বদায়ী খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দীপ দাসগুপ্তের মতে, সিরাজের নেতৃত্বগুণই তাকে ভবিষ্যতের ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত করতে পারে।
