অসমের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। বুধবার বিশ্বনাথের বেহালীতে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রহ্মপুত্র নদের নিচে ১৮,৫০০ কোটি টাকার একটি উচ্চাভিলাষী টানেল প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। গহপুর ও নুমানিগড়ের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা এই প্রকল্পটি কেবল যাতায়াত ব্যবস্থাই নয়, বরং রাজ্যের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জানান যে, কেন্দ্র সরকার ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ দিয়ে এই আন্ডারওয়াটার টানেল তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। ১৮,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সুড়ঙ্গটি গহপুর এবং নুমানিগড়ের মধ্যে নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব ভারতে যোগাযোগের এক নতুন ভোরের সূচনা করবে এবং স্থানীয় যুবক-যুবতীদের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।” এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী অসম সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্য়েই ২২ লক্ষ পরিবার পাকা বাড়ি পেয়েছে এবং আগামী দিনে আরও ১৫ লক্ষ পরিবার এই সুবিধা পাবে। নারী ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যে প্রায় ৩ লক্ষ মহিলা ‘লখপতি বাইদেউ’ হয়েছেন এবং বিজেপির লক্ষ্য এই সংখ্যাটিকে ৪০ লক্ষে উন্নীত করা। এছাড়াও ‘অরুণোদয়’ প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অসমের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ১৮,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেন। সুবনশিরি নদীর গভীরতা বৃদ্ধি-সহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উপায়ে অসমকে বন্যামুক্ত করার অঙ্গীকার করেন তিনি। পরিকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, গত এক দশকে ব্রহ্মপুত্রের ওপর ৫টি সেতু সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৫টির কাজ চলছে। এছাড়া রাজ্যে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ১৪ করা হয়েছে এবং আরও ১০টি নির্মাণাধীন রয়েছে।
বিরোধী দল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মোদী বলেন যে, কংগ্রেস তুষ্টির রাজনীতি করে অসমের সম্ভাবনাকে অবহেলা করেছে। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিরোধী নেতা ‘পরাজয়ের সেঞ্চুরি’র দিকে এগোচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী পুনরায় স্পষ্ট করেন যে, বিজেপি রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর এবং বিজেপি যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা পালন করে।
অসমের ভূমিপুত্রদের স্বার্থ রক্ষা এবং রাজ্যের ঐতিহ্য বজায় রেখে উন্নয়নের যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মডেলের কথা প্রধানমন্ত্রী আজ বেহালীতে তুলে ধরলেন, তা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পালে কতটা হাওয়া দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
