April 4, 2026
সিলচরে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোজি: উন্নত চিকিৎসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ শিক্ষার্থীরা

শিলচরের অম্বিকাপট্টি এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন মেধাবী এমবিএ ছাত্রী রোজি দেব। তার উন্নত ও জীবনদায়ী চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ায়, এখন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার জরুরি হস্তক্ষেপ ও আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ মার্চ শিলচরের অম্বিকাপট্টি এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একজন মদ্যপ চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে এসে রোজিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রোজির মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা জানান, আঘাতের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে তার জরুরি ভিত্তিতে দেশের বাইরে বা উন্নত কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন।

পুলিশ ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত চালক ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করলেও, পরবর্তীতে তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্তি পেয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী সমাজ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি রোজির সুচিকিৎসার দাবি তুলেছেন।

বর্তমানে রোজির পরিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার আশায় গুয়াহাটি এইমস-এ (AIIMS Guwahati) স্থানান্তরিত করেছে। তবে চিকিৎসার আকাশচুম্বী খরচ মেটাতে গিয়ে নিম্নবিত্ত পরিবারটি এখন দিশেহারা। পরিবারের সীমিত আর্থিক সংগতি এই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তহবিল সংগ্রহের কাজে নেমেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল অঙ্কের তুলনায় সংগৃহীত অর্থ অত্যন্ত সামান্য। সহপাঠীদের মতে, রোজির জীবন বাঁচাতে হলে সরকারি সহায়তা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সরাসরি আবেদন জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, “রোজি একজন মেধাবী ছাত্রী এবং তার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। আমরা মুখ্যমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করছি, তিনি যেন ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদারকি করেন এবং রোজিকে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।” অসম সরকারের মানবিক সহায়তাই কেবল পারে এই তরুণী শিক্ষার্থীকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *